তাড়াশে কলেজের গেট ধসে নিহতের ঘটনায় মামলা : রড ছাড়াই নিমির্ত হয় গেটের ছাউনী

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কলেজের গেট ভেঙ্গে ৪ জন নিহত হওয়ায় ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে, রড ছাড়া শুধু সিমেন্ট ও বালু দিয়ে ওই গেটের উপরের অংশের ছাউনী নির্মান করার কারনেই সেটি ভেঙ্গে পড়েছে বলে প্রশাসন, ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।মঙ্গলবার বিকেলে গুল্টা বাজারে শহীদ এম মনসুর আলী ডিগ্রি কলেজের নির্মাণাধীন গেটের উপরের অংশ ভেঙ্গে গুল্টা বাজার হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপর পড়ে। এতে ৪ জন নিহত হন এবং আহত হন হাটে আসা অন্তত ৫ ক্রেতা-বিক্রেতা। এ ঘটনায় রাতেই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বীকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান ও উপজেলা প্রকৌশলী বাবলু মিয়া। কমিটিকে আগামী ৭ থেকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, কলেজের অধ্যক্ষ আসাদ-উজ-জামানকে আসামী করে ওই ঘটনায় নিহত গাবরগাড়ি গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হকের জামাতা আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

তাড়াশ থানার ওসি মাহবুবুল আলম বলেন, মঙ্গলবার রাতে নিহত ২জনের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। রড ছাড়া শুধু বালু দিয়ে ওই গেটের ছাউনী নির্মান করা হয়েছে বলে সেটি ধসে পড়েছে বলে মামলায় উল্লেখ্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে তাড়াশ ইউএনও এবং গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ইফফাত জাহান বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নির্মানাধীন গেটের উপরের অংশে ৫ ইঞ্চি দেয়ালের উপরে ১ মিটার প্রস্থ ও ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি ছাউনী নির্মান করা হয়েছিল। যা নির্মানে কোন রড ব্যবহার হয়নি, শুধু সিমেন্ট ও বালু দিয়ে তৈরী করা ওই ছাউনীর ওজনও অনেক। এ কারনেই সেটি ভেঙ্গে পড়েছে। ঘটেছে হতাহতের ঘটনা। কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে গেটটি নির্মান করছিল। আমরা বিষয়টির তদন্ত করছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হলে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

ইউএনও আরও বলেন, নিহতদের মধ্যে তাড়াশের ২জনের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সাহায্য প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল ইসলাম জানান, কলেজের অধ্যক্ষ আসাদ-উজ-জামান সাড়ে ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মান করছেন। এ কাজে কোন ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়নি বা নকশা তৈরী করা হয়নি। অধ্যক্ষ নিজে সবকিছু করেছেন। কাজে অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বাধা দেয়া হলেও তিনি কারও বাধা মানেননি। যে কারনে সেটি ধসে ৪জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

Share via
Copy link